Wednesday, June 3, 2015

বৃহস্পতিবার ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট উপস্থাপন করবেন।
<a href='http://platinum.ritsads.com/ads/server/adserve/www/delivery/ck.php?n=acd94d5f' target='_blank'><img src='http://platinum.ritsads.com/ads/server/adserve/www/delivery/avw.php?zoneid=780&n=acd94d5f' border='0' alt='' /></a>
এটি হবে বাংলাদেশের ৪৪তম বাজেট এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬তম। আর অর্থমন্ত্রী হিসাবে আবুল মাল আবদুল মুহিতের নবম বাজেট। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতই প্রথম অর্থমন্ত্রী যিনি ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত একনাগাড়ে ৭টি বাজেট পেশ করছেন। অবশ্য তিনি ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে আরো দুটি বাজেট পেশ করেছিলেন।অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের জাতীয় বাজেটের আকার ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। যার মধ্যে ঘাটতির পরিমান ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা। বাজেটে রাজস্ব আদায় ধরা হয়েছে এক লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এবার জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭.১।ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণ নেয়া হবে ২৪ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। বিদেশি অনুদান ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।নতুন বাজেটে সরকারি চাকুরীজীবিদের জন্য পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা থাকছে। এবার শিশু বাজেট ঘোষণা করা হবে। আর পদ্মা সেতুর জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ৭ হাজার ২শ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হবে বলে সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে।সূত্র জানায়, ৪ জুন সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট, সংশোধিত বাজেট ও ২০১৫ সালের অর্থবিল উপস্থাপন করা হবে। প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনার পর ৩০ জুন পাস হবে।চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ওপর আলোচনা হবে ৭ জুন এবং ৮ জুন এটা পাস হবে। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হবে ৯ জুন এবং শেষ হবে ২৮ জুন। অর্থ বিল পাসের মাধ্যমে ১ জুলাই থেকে নতুন বাজেট বাস্তবায়ন শুরু হবে। - See more at: http://www.jugantor.com/current-news/2015/06/03/273156#sthash.GBywNRlb.dpuf

Monday, June 1, 2015

বাংলাদেশ-ভারত: স্থলসীমান্ত চুক্তি

দীর্ঘ ৪১ বছর অপেক্ষার পর বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে স্থলসীমান্ত চুক্তি। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের ৪৩ বছর পর বাংলাদেশ-ভারত একে অন্যের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে বাণিজ্যের জন্য পণ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবে। আর পণ্য পরিবহনের জন্য এক দেশ অন্য দেশকেমাশুলও দেবে। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতেরবাণিজ্য ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দুই পক্ষ আন্তর্জাতিক চুক্তি, সনদ ও রীতি অনুসরণ করে আলোচনার ভিত্তিতে দুই দেশ পণ্য পরিবহনের জন্য ট্রানজিটের মাশুলের হার ঠিক করবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুদিনের ঢাকা সফরের প্রথম দিনেই অর্থাৎ ৬ জুন এ বিষয়গুলোর সুরাহা হতে যাচ্ছে। ওই দিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক শেষে পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন হবে বাণিজ্য চুক্তি ও অভ্যন্তরীণ নৌ-বাণিজ্য ও ট্রানজিটের প্রটোকল। চালু হবে আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিস।
দুই পক্ষের সম্মতিতে তৃতীয় দেশে পণ্য পরিবহন ও মাশুলের প্রস্তাব যুক্ত করে বাণিজ্য চুক্তিতে পরিবর্তন আনা হয়। সংশোধিত চুক্তিটি পাঁচ বছরের জন্য নবায়ন হবে। বাণিজ্য চুক্তিতে পরিবর্তন আনায় নৌ-প্রটোকলেও তৃতীয় দেশে পণ্য পরিবহন ও মাশুলের বিষয়টি যুক্ত করা হয়। গত ১৮ মে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় সংশোধিত নৌ-প্রটোকল পাস হয়। গত ১৯ মে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এ দুটি বিষয় বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এতে অনিশ্চয়তা দেখা দেয় নৌ-প্রটোকল নিয়ে। শেষ পর্যন্ত গত ২৮ মে ভারত অবস্থান পরিবর্তন করায় নৌ-প্রটোকল নিয়ে অনিশ্চয়তার অবসান হয়।
জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা গতকাল রোববার দুপুরে তাঁর দপ্তরে প্রথম আলোকে বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি ও নৌ-প্রটোকলে আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রীতি অনুসরণ করে ট্রানজিট মাশুলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এক দেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের মাধ্যমে অন্য দেশ পণ্য পরিবহনের জন্য মাশুল দেবে। সংশোধিত বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী ভারতের সড়ক, নৌ ও রেলপথ ব্যবহার করে নেপাল বা ভুটানের মতো তৃতীয় কোনো দেশে বাংলাদেশ পণ্য পরিবহন করতে পারবে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন। ভারতও বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে পারবে।
নরেন্দ্র মোদির প্রথম ঢাকা সফরে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ঘোষণা, তৃতীয় দেশে পণ্য পরিবহন ও ট্রানজিটের জন্য মাশুল নির্ধারণের পাশাপাশি বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা সহজ করার ঘোষণা আসছে। তবে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দাবি, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি এ সফরে সই হচ্ছে না।
প্রথম আলোর নয়াদিল্লি প্রতিনিধি জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ গতকাল তাঁর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই হবে না। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত নিয়েই চুক্তিটি সই হবে।
মোদি সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের এক বছরের কাজের মূল্যায়ন উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সুষমা ঢাকায় মোদির সফরসঙ্গী হচ্ছেন না।
এদিকে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে মোদির সফরসঙ্গীদের যে তালিকা বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে, তাতে কোনো মন্ত্রীর নাম নেই। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্কর মোদির সঙ্গে ঢাকায় আসবেন। সফরসঙ্গী হিসেবে এক দিন আগেই ঢাকায় আসবেন মমতা। ৫ জুন ঢাকায় এসে তিনি ৬ জুন কলকাতা ফিরে যাবেন।
মমতার কারণে শেষ মুহূর্তে মোদির ঢাকা সফরসূচিতে কিছু পরিবর্তন আসছে। এর আগে খসড়া সফরসূচিতে ৭ জুন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিস উদ্বোধনের কথা ছিল। দুই পক্ষ এখন বাস সার্ভিস উদ্বোধনের অনুষ্ঠানটি ৬ জুন বিকেলে দুই প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজনের কথা ভাবছে। একই অনুষ্ঠানে ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি বাস সার্ভিস উদ্বোধনেরও কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ৬ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির শীর্ষ বৈঠকের পর বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে। চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকসহ প্রায় ২০টি চুক্তি সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চুক্তিগুলো হচ্ছে বাণিজ্য, ঋণ, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল ও পণ্যের মান পরীক্ষা। সমঝোতা স্মারকের মধ্যে রয়েছে মানব পাচার ও জাল নোট প্রতিরোধ, উপকূলীয় রক্ষীদের সহযোগিতা ও যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল। এ ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন, সামুদ্রিক অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ মোকাবিলা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।